স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে কয়টি ও কি কি? সহজ ব্যাখ্যা, উদাহরণ ও বিশ্লেষণ

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে কয়টি ও কি কি বিস্তারিত জানুন।বাংলা ভাষা আমাদের পরিচয় গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। বাংলা হচ্ছে আমাদের মনের ভাব প্রকাশের একটি মাধ্যম। এই ভাষার মূল ভিত্তি হচ্ছে বর্ণমালা। আর বর্ণমালার প্রধান দুইটি অংশে বিভক্ত। স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ।

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে কয়টি
স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে কয়টি

আজকের এই পোস্টটি শেয়ার করব বাংলা স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি ও কি কি? স্বরবর্ণ কাকে বলে ও ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে স্বর বর্ণের উচ্চারণ থেকে শুরু করে সবকিছু বিস্তারিত আলোচনা করব।

বাংলা বর্ণমালা কি

বাংলা বর্ণমালা বলতে বলতে বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অক্ষরগুলো সমষ্টি। বাংলায় বিভিন্ন অক্ষর রয়েছে যেমন, ক, খ, গ, অ, আ। এরকম অক্ষরগুলোর সমষ্টিকে বলা হয় বাংলা বর্ণমালা যেমন আ+ মি= আমি।

আরও জানুন: ভিডিও দেখে প্রতিদিন ৫০০ ১০০০ টাকা আয় করুন (সম্পূর্ণ গাইড 2026)

বাংলা বর্ণমালার প্রধানত দুই ভাগে বিভক্ত।

  • স্বরবর্ণ
  • ব্যঞ্জনবর্ণ

এই বিভাজনটি মূলত ধ্বনিগত বৈশিষ্ট্য এর উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে এবং কোন বর্ণ কিভাবে উচ্চারণ করা হবে সেই সকল বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে।

যে শব্দগুলো সহজে উচ্চারণ করা যায় কোন বাধা সৃষ্টি হয় না সেই শব্দগুলোকে বলা হয় স্বরবর্ণ। আর যেই শব্দগুলো একাধিক শব্দের সমন্বয়ে তৈরি হয় কিংবা যে শব্দগুলো উচ্চারণ করার সময় বাধা সৃষ্টি হয় তাকে বলা হয় ব্যঞ্জনবর্ণ।

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কাকে বলে কয়টি ও কি কি? সহজ ব্যাখ্যা, উদাহরণ ও বিশ্লেষণ

যে সকল বর্ণ সমূহ কিবা ধনী সমূহ উচ্চারণ করতে কোন রকম সমস্যা হয় না কোনরকম বাধা সৃষ্টি হয় না কারো সাহায্য লাগে না তাদেরকেই বলা হয় স্বরবর্ণ।

স্বরবর্ণ মানে স্বাধীন।✔️

স্বরবর্ণ বলতে কি সহজ ভাষায় মনে রাখবেন যেই শব্দ স্বাধীন যে শব্দ উচ্চারণ করতে একাধিক শব্দের প্রয়োজন হয় না অন্য কোন শব্দের সাহায্য নিতে হয় না এবং যেই শব্দ উচ্চারণ করতে কোন বাধা সৃষ্টি হয় না।

তাকেই বলা হয় স্বরবর্ণ। বাংলা বর্ণমালার সবচেয়ে সহজ বর্ণ গুলো হচ্ছে স্বরবর্ণ যেমন অ, আ, ই, ঈ। এই শব্দগুলো উচ্চারণ করতে কোন বাধা সৃষ্টি হয় না এবং আমরা সহজেই এই শব্দগুলো উচ্চারণ করতে পারি।

এবার আমরা আলোচনা করি  ব্যঞ্জনবর্ণ নিয়ে। ব্যঞ্জনবর্ণ বলতে বোঝায় যে সকল বর্ণ উচ্চারণ করতে একাধিক শব্দের সাহায্যে প্রয়োজন হয় কিংবা যে সকল শব্দ উচ্চারণ করতে বাধা সৃষ্টি হয় তাকে ব্যঞ্জনবর্ণ বলে।

ব্যঞ্জনবর্ণের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটি শব্দের প্রাণ হিসেবে কাজ করে । ব্যঞ্জন বর্ণ ছাড়া মনের ভাব প্রকাশ করা কিংবা ভাষা গঠন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। ব্যঞ্জনবর্ণের প্রথম অক্ষর হচ্ছে ক ।

স্বরবর্ণ কয়টি ও কি কি

বাংলায় স্বরবর্ণ টোটাল ১১ টি। স্বরবর্ণ ১১টি। এই ১১ টি শব্দ খুব সহজে উচ্চারণ করা যায় মুখের মধ্যে দিয়ে বাতাস বেরিয়ে খুব সুন্দর ভাবে উচ্চারিত হয়।

স্বরবর্ণ গুলো উচ্চারণ করতে অন্য কোন শব্দ এর সাহায্যের প্রয়োজন হয় না। প্রত্যেকটি স্বরবর্ণ একে অপরের থেকে আলাদা এবং বাংলা ভাষা ব্যবহারের স্বর বর্ণের ব্যবহার অপরিহার্য।

স্বরবর্ণ ১১ টি নিচে দেওয়া হল।

এই বর্ণগুলো বাংলা ভাষার প্রতিটি শব্দে কোনো না কোনোভাবে ব্যবহৃত হয় যেমন, ”এ”ইদিকে, না ” দিকে  যাও।

বাংলা ভাষায় স্বর্ণ বর্ণ গুলো বাংলা ভাষায় কথা বলার সময় কোনো না কোনো ভাবে ব্যবহার হয়। আর স্বরবর্ণ ব্যবহারে কোন বাধা সৃষ্টি হয় না এই স্বরবর্ণ গুলো খুব সহজে আমাদের মুখের ভেতর থেকে উচ্চারিত হয়।

ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি ও কি কি

ব্যঞ্জনবর্ণ বাংলা ভাষায় মোট ৩৯ টি। ব্যঞ্জনবর্ণ বিভিন্ন ধরনের ধ্বনি তৈরি করে এবং শব্দকারনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যখন আমরা কথা বলি তখন অধিকাংশ কথাই আমাদের হয় ব্যঞ্জন বর্ণের। যেমন কোথায় যাচ্ছ?? কবে যাবে ?? কেন যাবে।

তুমি কেমন আছো?? আমি ভালো আছি। এই সকল সেনটেন্সে অধিকাংশ শব্দই থাকে ব্যঞ্জনবর্নতে। ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণ করার সময় কিছু বাধা সৃষ্টি হয়। ব্যঞ্জনবর্ণ ধ্বনি তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিটি ব্যঞ্জনবর্ণ এর উচ্চারণ আলাদা এবং এগুলোকে বিভিন্ন শ্রেণীতে ভাগ করা হয় এই শ্রেণিবিভাগ বোঝা গেলে ব্যঞ্জনবর্ণ শেখা আরও সহজ হয়ে যাবে।

ব্যঞ্জনবর্ণ গুলো কি কি??

ব্যঞ্জনবর্ণ গুলো হচ্ছে: ক,, খ,, গ,,ঘ,, ঙ,, চ,, ছ,, জ,, ঝ,, ঞ,, ট, ঠ,, ড,,, ঢ,, ণ,, ত,থ,,, দ,,, ধ,,, ন,,, প,,, ফ,,, ব,,, ভ,,,, ম,,, য,,, র,,, ল,,, শ,,, ষ,,, স,,, হ,,, ড়,,, ঢ়,, য়

এই ব্যঞ্জনবর্ণগুলো উচ্চারণ করার সময় জিহ্বার থেকে কিংবা দাঁত থেকে অথবা ঠোঁটের মধ্য থেকে বাতাস বের হয় এবং এই শব্দগুলো শিখার জন্য উচ্চারণ অনুশীল করা খুবই জরুরী।

ব্যঞ্জনবর্ণ একবার উচ্চারণ করা শিখে গেলে বাংলা ভাষায় কথা বলা সহজ হবে। ব্যঞ্জনবর্ণ গুলোকে তাদের বর্গ অনুযায়ী ভাগ করা হয় যেমন ক – বর্গ, চ – বর্গ। প্রতিটি বর্গতে মোট পাঁচটি করে বর্ণ থাকে এবং এই বর্গ উচ্চারণে আলাদা আলাদা পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত।

ব্যঞ্জনবর্ণ মাত্রাহীন বর্ণ কয়টি

ব্যঞ্জনবর্ণ হচ্ছে মোট ৩৯ টি। মোট ৩৯ টি ব্যান্ডের বর্ণের মধ্যে মাত্রাহীন বর্ণ রয়েছে শুধুমাত্র দশটি। মাত্রাহীন বর্ণ বলতে চাই যে বর্ণগোলের ওপরে কোন মাত্রা নেই। যেমন ঠ, ট এই বর্ণগুলোর ওপরে মাত্রা রয়েছে।

আরও জানুন: বাংলা ভাষায় মৌলিক স্বরধ্বনি কয়টি ও কি কি – সহজ ভাষায় আলোচনা

আর মাত্রা নেই এমন ব্যঞ্জনবর্ণ গুলো হচ্ছে: ল, র, ন,ণ, ম, য, শ, স, ঙ, ঞ

এই দশটি ব্যঞ্জনবর্ণ দিয়ে কোন মাত্রা নেই। পরীক্ষাতে যদি প্রশ্ন হয় মাত্রাহীন ব্যঞ্জনবর্ণ লিখো তাহলে আপনি এই ব্যঞ্জনবর্ণ লিখতে পারবেন যে ব্যঞ্জন বর্ণ গুলোর উপরে কিংবা নিচে কোন রকম কোন মাত্রা নেই।

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ কয়টি english

There are 11 vowels and a total of 39 consonants in Bengali language.The vowels in Bengali are:

And the consonants are: ক,, খ,, গ,,ঘ,, ঙ,, চ,, ছ,, জ,, ঝ,, ঞ,, ট, ঠ,, ড,,,,, ঢ,, ণ,, ,,,ত,থ,,, দ,,, ধ,,, ন,,, প,,, ফ,,, ব,,, ভ,,,, ম,,, য,,, র,,, ,,ল,,, শ,,, ষ,,, স,,, হ,,, ড়,,, ঢ়,, য়

If you want to be proficient in the Bengali language and speak Bengali like a native speaker, you need to know the vowels and consonants very well.

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ এর পার্থক্য

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ এর মধ্যে যথেষ্ট পার্থক্য রয়েছে স্বরবর্ণ একাই উচ্চারণ করা যায় কিন্তু ব্যঞ্জনবর্ণ একা উচ্চারণ করা যায় না ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণ করতে হলে অপর করে বনের সাহায্য নিতে হয়।

সংখ্যার দিক থেকেও এদের পার্থক্য রয়েছে যেমন ব্যঞ্জনবর্ণ হচ্ছে ৩৯টা আর স্বরবর্ণ হচ্ছে শুধুমাত্র ১১টা। ব্যবহারের দিক থেকে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ এর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ এ দুইটি বর্ণ সম্পন্ন আলাদা ব্যঞ্জনবর্ণের সাথে সরব বর্ণ যুক্ত না হলে তা অসম্পূর্ণ। স্বরবর্ণ নিজে নিজে উচ্চারিত হয়।

ব্যঞ্জনবর্ণ উচ্চারণ করতে স্বরবর্ণর প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্বরবর্ণ উচ্চারণ করতে ব্যঞ্জনবর্ণের প্রয়োজন হয় না। স্বরবর্ণের স্বাধীনভাবে উচ্চারণ করা যায় কিন্তু স্বর বর্ণের সাহায্য নিয়ে ব্যঞ্জনবর্ণ কে উচ্চারণ করতে হয়।

স্বরবর্ণ সম্পূর্ণ ধ্বনি প্রকাশ করে আর ব্যঞ্জনবর্ণ অসম্পূর্ণ ধ্বনি প্রকাশ করে। স্বরবর্ণ কে বলা হয় শব্দের প্রাণ আর ব্যঞ্জনবর্ণ কে বলা হয় শব্দের কাঠামো।

আশা করি সকলে বুঝতে পেরেছেন স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের পার্থক্য সম্পর্কে। স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের মধ্যে একাধিক পার্থক্য রয়েছে আশা করি আপনারা সকলেই বুঝতে পেরেছেন স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণ সম্পর্কে।

উপসংহার

প্রিয় পাঠক আজকের এই পোস্টে আপনাদের সাথে আমরা আলোচনা করলাম স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জবর্ণ নিয়ে। আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন স্বরবর্ণ কত প্রকার ব্যঞ্জনবর্ণ কত প্রকার স্বরবর্ণ কয়টি ও কি কি ব্যঞ্জন বর্ণ কয়টি ও কি কি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!
Scroll to Top