আখরোট এর উপকারিতা ২৩টি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

Table of Contents

আখরোট এর উপকারিতা অনেক। আখরোট খেলে মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটে, স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে এবং হার্ট ভালো থাকে। আজকের এই প্রতিবেদনে আখরোট খাওয়ার নিয়ম ও উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব পাশাপাশি আখরোটের দাম ? আখরোট কি সেই সকল বিষয় সম্পর্কে জানতে পারবেন। 

আখরোট এর উপকারিতা

আখরোট একটি বাদাম জাতীয় খাবার। যারা বাদাম খেতে ভালোবাসেন তারা নিঃসন্দেহে আখরোট খেতে ভালোবাসেন। আখরোট খেতে খুবই সুস্বাদু এবং আখরোট এর উপকারিতা অনেক। এই বাদাম জাতীয় ফল কি খাওয়ার মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমানো যায় এবং ক্যান্সার প্রতিরোধ করা সম্ভব। চলুন তাড়াতাড়ি দেখে আসি আখরোট এর উপকারিতা, আখরোট খাওয়ার নিয়ম উপকারিতা এবং আখরোটের দাম কত। 

আখরোট এর উপকারিতা ২৩টি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা সম্পর্কে জানুন

আখরোট এর বহু উপকারিতা রয়েছে। আখরোট একপ্রকার বাদাম জাতীয় ফল। এই ফল অত্যন্ত পুষ্টিকর যাতে প্রচুর আমিষ এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি আসিড আছে। এই ফলটি গোলাকার এবং ভেতরে একটি বীজ থাকে। পাকা ফলের বাইরের খোসা ফেলে দিলে ভেতরের শক্ত খোলস যুক্ত বীজটি পাওয়া যায়; এই খোলসের ভেতরে থাকে দুইভাগে বিভক্ত বাদাম যাতে বাদামি রঙের আবরন থাকে যা এন্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। আখরোট খাওয়ার ২৩টি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা নিচে দেওয়া হল।

  1. হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে।
  2. মস্তিষ্কের কার্যকারিতা সমর্থন করে এবং নিউরোডিজেনারেটিভ রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে। 
  3. টাইপ 2 ডায়াবেটিস পরিচালনায় সাহায্য করতে পারে।
  4. সম্ভাব্য কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়। 
  5. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াই।
  6. আখরোটে পর্যাপ্ত পরিমানে প্রোটিন থাকে যা মানব শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।
  7. আখরোটে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিজেন ও ফাইটোকেমিক্যাল রয়েছে। এছাড়াও আখরোটে ভিটামিন ই (একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট) কোষকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
  8. দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় পদার্থ থাকে যা অন্ত্রের জন্য ভালো।
  9. স্নায়ুগত সমস্যা ও সমাধান করে।
  10. ওজন কমাতে সাহায্য করে।

আখরোট খেলে ওপরের এই উপকারিতা সমূহ পাওয়া যায়। আখরোট খাওয়ার আরো বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে নিচে দেখে নিন আখরোট খাওয়ার আরো ১৩ টি স্বাস্থ্যকর উপকারিতার দেওয়া রয়েছে।

আরো পড়ুন: শিক্ষা সফরে যাওয়ার জন্য আবেদন পত্র ক্লাস চতুর্থ পঞ্চম এবং ষষ্ঠ ও সপ্তম অষ্টম শ্রেণীর জন্য

আখরোট এর উপকারিতা

আখরোট খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে

আখরোট খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে কারণ আখরোট থেকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় এটি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে যারা দুর্বল স্মৃতি শক্তি নিয়ে ভুগছেন তারা নিয়মিত সকালে চার থেকে পাঁচটি আখরোট খাওয়া শুরু করুন এতে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়বে এবং স্মৃতিশক্তি আরো উন্নত হবে। 

আখরোট খেলে ত্বক ভালো থাকে 

আখরোট খেলে তো খুব ভালো থাকে এখনও থেকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি ফাইভ এবং ভিটামিন সি পাওয়া যায় যা ত্বকের জন্য উপকারী এটি ত্বকের শুষ্কতা কমায়, ত্বকের জেল্লা বৃদ্ধি করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা কে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। ফ্রি রেডিকেলস কমায় ত্বক থেকে বয়সের ছাপ দূর করে।

আখরোট খেলে অস্টিওপরেসিস প্রতিরোধ হয় 

আখরোট খেলে অস্টিওপরেসিস প্রতিরোধ হয় কারণ আখরোট থেকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম পাওয়া যায় যা হারকে মজবুত করতে সাহায্য করে হাড়ের জয়েন্ট কে আরো মজবুত করে। এতে হারে কিংবা পায়ের জয়েন্টে জয়েন্টে ব্যথা দূর হয়। হাড় ক্ষয় হয়ে গেলে কিংবা জয়েন্টে ব্যাথা থাকলে এগিয়ে অস্টিওপোরেসিস বলা হয়। তাই অস্টিওপরেসিস প্রতিরোধ করতে নিয়মিত আখরোট খেতে হবে। 

আখরোট খেলে মানসিক চাপ কমে 

আখরোট খেলে মানসিক চাপ কমে। আখরোট একটি সুস্বাদু শুকনো ফল এটি বাদামের মতো এবং এখনো থেকে ভরপুর পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় যা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। আখরোট খেলে কিছুটা মানসিক চাপ কমে এবং মানসিকভাবে স্বস্তি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমাতে কয়েকটা আখরোট নিয়ে খাওয়া শুরু করুন। 

আখরোট খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে 

আখরোট থেকে ভরপুর পটাশিয়াম পাওয়া যায় যা হার্টের কার্যক্ষমতা কে বাড়াতে সাহায্য করে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। নিয়মিত আখরোট খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে যাবে। পটাশিয়াম জাতীয় খাবার খেলে রক্ত শিথিল থাকে এতে উচ্চ রক্তচাপ কমে এবং হার্ট অ্যাটাকে ঝুঁকি কমে যায়। 

আখরোট খেলে হজম শক্তি উন্নত হয় 

আখরোট খেলে হজম শক্তি উন্নত হয় আখরোট থেকে ভরপুর ফাইবার পাওয়া যায় যা হজম শক্তির জন্য ভালো এটি যে কোন খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে এবং গ্যাসের সমস্যাকে দূর করে। হজম শক্তি দুর্বল থাকলে গ্যাসের সমস্যা হয়। প্রাকৃতিক উপায়ে হজম শক্তিকে ভালো রাখতে আখরোট খেতে হবে। 

আখরোট খেলে চুল মজবুত হয় 

আখরোট খেলে চুল মজবুত হয়। আখরোট থেকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় এটি চুলের সঠিক পুষ্টি সরবরাহ করে এবং চুলের গোরাকে মজবুত করে চুল দ্রুত বড় করতে সাহায্য করে এছাড়াও থেকে ভিটামিন ই এবং জিঙ্ক পাওয়া যায় যা চুলের বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিটামিন ই চুলের গোড়া গেম শক্তিশালী করে এবং চুলের স্কেলপে রক্ত সঞ্চালন গতি বৃদ্ধি করে।।

আখরোট খেলে স্টকের ঝুঁকি কামে 

আখরোট খেলে স্টকের ঝুঁকি কমে কারণ এখনো থেকে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পাওয়া যায় এটি স্টকে যদি কমাতে সাহায্য করে এবং আপলোড খেলে রক্ত প্রবাহ শিথিল থাকে। আখরোটে কি পুষ্টিকর খাদ্য আখরোট থেকে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম পাওয়া যায় এটি উচ্চ রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং উচ্চ রক্তচাপ হলে স্ট্রোকের একটি প্রধান কারণ। নিয়মিত আখরোট খেলে কোলেস্টেরল কমে এতে স্টকের ঝুলি কমে। 

আরো পড়ুন :মেলাট্রিন ক্রিম কত দিন ব্যবহার করতে হবে? এবং ব্যবহারের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন

আখরোট খেলে কিডনি সুস্থ থাকে 

আখরোট খেলে কিডনি সুস্থ থাকে। কিডনি মানব শরীরে ছাকনির মত কাজ করে। নিয়মিত আখরোট খেলে কিডনি ভালো থাকে এবং আখরোড থেকে ফাইবার ও আন্টি অক্সিডেন্ট পাওয়া যায় এটি শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয় এবং কিডনির উপর চাপ কমায় এতে কিডনি সুস্থ থাকে।

আখরোট খেলে ডিপ্রেশন কমে 

আখরোট খেলে ডিপ্রেশন কমে কারন আগ্রহ থেকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স রয়েছে এটি মস্তিষ্কের স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্ষমতা কে উন্নত করে এবং মেজাজ কে ভালো রাখে এছাড়াও আখরোট থেকে এন্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান পাওয়া যায় এটি মস্তিষ্কের প্রদাহ কে কমায় এদের উদ্বেগ এবং রাগ ও কমে। এজন্য ডিপ্রেশন অথবা মানসিক চাপ থাকলে বেশি বেশি আখরোট খেতে হবে।

আখরোট খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে 

আখরোট খেতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে। আখরোট থেকে শর্করা পাওয়া যায় যা ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। আখরোট থেকে প্রচুর ফাইবার পাওয়া যায় শরীরে শর্করার শোষণ কমে যায় এবং ইন্সুলিনের সংবেদনশীলতা বেড়ে যায় যার ফলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।

আখরোট খেলে ওজন কমে 

আখরোট খেলে ওজন কমে যারা অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চিন্তিত রয়েছেন তারা নিয়মিত আখরোট খাওয়া শুরু করুন। আখরোড থেকে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন এবং ফাইবার পাওয়া যায় যা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেটকে ভরা রাখে এবং ক্ষুধার পরিমাণ কমিয়ে দেয় এছাড়াও আগ্রহ থেকে কিছু হরমোন পাওয়া যায় যার শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে। 

আখরোট খেলে কোলেস্টেরল কমে 

আখরোট খেলে কোলেস্টেরল কমে। অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের ফলে উত্তর রক্তচাপ তৈরি হয়, তাই নিয়মিত আক্রান্ত খেতে হবে এবং উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল কমাতে হবে। আখরোটে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড রয়েছে এটি এল ডি এর অথবা খারাপ কোলেস্টেরলকের পরিমাণকে কমাতে সাহায্য করে এবং এইচডিএল ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বৃদ্ধি করে।

আখরোট খেলে ওপরের এই উপকারিতা গুলো পাওয়া যাবে এখনো নিঃসন্দেহে একটি স্বাস্থ্যকর খাবার যা খাবার ফলে উপরের এই উপকারিতা গুলো পাবেন এখন খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে ওজন কমে এবং ত্বক সুন্দর থাকে পাশাপাশি আখরোট খেলে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত হয়। আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন এখন কি কি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা সমূহ পাওয়া যায় এবার চলুন দেখে আসি আখরোট খাওয়ার অপকারিতা।

আখরোট খাওয়ার অপকারিতা

আখরোট উপকারী খাবার হলে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে কিছু শাস্তির ক্ষতি হতে পারে। আখরোট যেহেতু বাদাম জাতীয় খাবার, এতে প্রয়োজনীয় ফ্যাট রয়েছে যা অতিরিক্ত গ্রহন করলে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। অধিক পরিমানে খেলে শরীরে মেদ জমতে পারে।

আরো পড়ুন: চাকরির জন্য আবেদন পত্র তৈরি করার নিয়ম বাংলা এবং ইংরেজিতে

ফলে অতিরিক্ত ওজন বাড়তে শুরু করবে। কিছু লোকের মধ্যে আখরোট এলার্জির প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। প্রতিক্রিয়ার তীব্রতা একেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে পৃথক হতে পারে। আখরোটের অ্যালার্জির কিছু সাধারণ লক্ষণ হল জিভে এবং মুখে চুলকানি, আমবাত, গলা ফুলে যাওয়া, হাঁপানির টান, আনাফিলাক্তিক অভিঘাত।

আখরোটের অতিরিক্ত সেবন কিছু লোকের ক্ষেত্রে ত্বকে ফুসকুড়ি এবং ফুলে যাওয়া হিসেবে দেখা দিতে পারে, বিশেষত যারা বাদামের প্রতি একটু বেশি আগ্রহী।আখরোট পরিচিত খাদ্যগত ফাইবারের একটি দুর্দান্ত উৎস হিসেবে। কিন্তু যদি এটি অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া হয়, এই ফাইবার ডায়রিয়া এবং পেট ব্যথার রূপে দেখা দিতে পারে।

হিস্টামিনের মত অ্যালারজেন আখরোটে থাকার দরুন এটি আপনার স্বাস্থ্যের অবস্থা খারাপ করতে পারে। এটি বমিভাব এবং পেট ব্যথার মত প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে। যেই জিনিস হোক না কেন কোনো কিছু অতিরিক্ত পরিমানে সেবন করলে হিতের বিপরীত হয়ে যায়।

আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন আখরোট খাওয়ার অপকারিতা সম্পর্কে এবং আখরোট খেলে কি কি ক্ষতি হতে পারে। আখরোট একটি সুস্বাদু খাবার হলে অতিরিক্ত খাবার ফলে উপরের এই ক্ষতিগুলোর সম্মুখীন হতে হবে এবার চলুন দেখে আসি আখরোট খাওয়ার সঠিক নিয়ম।

আখরোট খাওয়ার নিয়ম

আখরোধ খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে জানতে চান? আখরোট অনেক পুষ্টিগুন সম্পন্ন  একটি খাবার। এই ফল খাওয়ার ভালো কিছু নিয়ম রয়েছে। সম্পূর্ণ পুষ্টিগুণ পেতে, হজম শক্তি ভালো রাখতে, হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়াতে আখরোটকে পানিতে ভিজিয়ে সকালে খাওয়া ভালো। তবে পানির পরিবর্তে দুধ কিংবা মধুর সঙ্গেও সকালে আখরোট খাওয়া যেতে পারে।

2 টি করে আখরোট রাতে ভিজিয়ে রেখে সকালে খাওয়ার অবভাস করে উপকার বুঝতে পারবেন। তবে দৈনিক ২ টির বেশি আখরোট খাওয়া উচিত নয়। প্রতিদিন 30-60 গ্রাম আখরোট খাওয়া হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদের জন্য দিনে ৫ টি আখরোট খাওয়া যথেষ্ট।

আখরোট এর ওপরে মোটা একটি আস্তরন থাকে যেটি তুলে নিতে হবে। এই আস্তরণসহ খেলে পেট খারাপ হতে পারে। তাই উপরের পাতলা আস্তরণটি তুলে ফেলতে হবে এবং প্রতিদিন পানির মধ্যে ভিজিয়ে আখরোট খেতে হবে সর্বোচ্চ দিনে দুইটি আখরোট খেতে পারেন।

আখরোট খাওয়ার কোন নির্দিষ্ট নিয়ম নেই তবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করে আখরোট খেলে এর পরিপূর্ণ উপকারিতা লাভ করতে পারবেন আপলোড খাওয়ার পূর্বে পানি দিয়ে ধুয়ে খেতে হবে এবং পানিতে ভিজিয়ে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। 

আখরোট কখন খেতে হবে 

অনেকেই জিজ্ঞাসা করেন যে আখরোট কখন খেতে হবে? আখরোট সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে। আখরোট একটি পুষ্টিগুণে ভরপুর বাদাম জাতীয় খাবার এদিকে শুকনো ফল বলা হয়।

 যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ভিজিয়ে রাখা দুইটি আখরোট খেয়ে নিতে হবে এদের সারাদিন শরীরে পুষ্টি সরবরাহ হবে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ হবে এবং শরীরে প্রচুর শক্তি উৎপন্ন হবে।

আখরোট সকালে নাস্তার সাথে খেতে পারবেন কিংবা বিকালে নাস্তার সাথে খেতে পারবেন। আখরোটের সাথে মধু এবং দুধ মিশিয়ে খেলে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে। আখরোট সকালে ঘুম থেকে উঠে কিংবা রাতে ঘুমানোর পূর্বে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যাবে।

আখরোটে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে 

আপনি কি জানেন আখরোটে কি কি পুষ্টি উপাদান রয়েছে? আখরোটে অনেক পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ একধরনের বাদাম যাতে প্রচুর পরিমানে রয়েছে আমিষ এবং অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি অ্যাসিড।এই ফলটি মানব দেহের গুরুত্বপূর্ন কিছু পুষ্টির যোগান দেয়।

প্রতি ১০০ গ্রাম আখরোটে আছে  ১৫.২ গ্রাম প্রোটিন,৬৫.২ গ্রাম স্নেহ পদার্থ এবং ৬.৭ গ্রাম ফাইবার।এছাড়াও রয়েছে ভিটামিন C 2%,আইরন ১৬%,ভিটামিন B6 25%,ম্যাগনেসিয়াম ৩৯%,ক্যালসিয়াম ৯%। তাহলে বুঝতেই পারছেন যে আখরোট অতি পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ এক জাতীয় বাদাম।

গর্ভাবস্থায় আখরোট খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভাবস্থায় আখরোট খাওয়ার উপকারিতা অনেক। গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর স্বাস্থের জন্য আখরোট অনেক উপকারি। ওপরে উল্লেখিত পুষ্টিগুনের সব কয়টি নবজাতক শিশুর সুষম বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।গর্ভবতী মায়েরা আখরোট খেলে 

এতে থাকা পলি আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড গর্ভের শিশুর এলার্জির সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।এতে থাকা ফলিক এসিড গর্ভবতি ও শিশুর জন্য উপকারি।আখরোটে থাকা বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিগুন মায়ের স্বাস্থ ভালো রাখে।আখরোটে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড শিশুর মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

গর্ভাবস্থায় আখরোট খাওয়ার উপকারিতা

  • গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে দ্রুত শিশুর বুদ্ধি বিকাশ হবে। 
  • গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে দ্রুত শিশু শরীর গঠন হবে। গর্ভাবস্থায় আখরোট খাওয়া শিশুর মস্তিষ্ক এবং চোখের জন্য উপকারী। 
  • গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে মায়ের হার্ট সুস্থ থাকবে এবং উচ্চ রক্তচাপ কমবে।
  • গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে বাচ্চার গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা হবে। 
  • গর্ভাবস্থায় বেশি বেশি আখরোট খেলে মায়ের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। 
  • গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে মায়ের শরীরে এলার্জির সমস্যা দূর হবে। 

গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে ওপরের এই উপকারিতা গুলো পাওয়া যাবে। আখরোট খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বিশেষ করে গর্ভকালীন সময়ে আখরোট খেলে এটি বাচ্চা এবং মায়ের উভয়ের শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন গর্ভাবস্থায় আখরোট খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে।

আখরোট কোথায় পাওয়া যায়

আপনি কি জানেন আখরোট কোথায় পাওয়া যায়? বাংলাদেশে আখরোটের তেমন চাষ হয় না।আমাদের দেশীয় পদ্ধতিতে চাষ করার মতো খুব সহজে চাষ করা যায় না তাই এগুলোর উৎপাদন খরচ একটু বেশি। এক সময় আখরোট ভারত এবং উত্তর আমেরিকায় স্থানীয় ছিল,তবে এখন এটি বাণিজ্যিকভাবে

চীন,তুরস্ক,ইরান,চিলি,ইউক্রেন,মেক্সিকো এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফলানো হয়।এমনকি ২০১৬-১৭ সালে চীন সারাবিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম আখরোট উংপাদক কারী দেশ হয়।বাইরের দেশ থেকে আমাদের দেশে আখরোট আমদানি করে নিয়ে আসতে হয়। বিভিন্ন মুদিখানার দোকানে পেয়ে যাবেন আখরোট।

আখরোটের দাম কতো

আখরোট বিদেশ থেকে আমদানি করে নিয়ে আসতে হয় এবং এটির চাহিদা ভালো থাকাই বাংলাদেশের বাজারে বেশ ভালো দামে বিক্রি করে থাকে বিক্রেতা।প্রতি ১ কেজি আখরোটের দাম ১,৪০০ টাকা।  ৫০০ গ্রাম অরিজিনাল আখরোট এর দাম ৭৫০ টাকা এবং ১০০ গ্রাম ১৪০ টাকা। ২০০ গ্রাম অরিজিনাল আখরোটের দাম ২৮০ টাকা।

বাংলাদেশে আখরোটের দাম

বাংলাদেশে বিভিন্ন অনলাইন পেজে আপলোড কিনতে পাওয়া যায় যারা বাংলাদেশে আখরোটের দাম সম্পর্কে জানতে চান তারা একদম সঠিক জায়গাতে এসেছেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন পেজে এক কেজি আখরোটের দাম ১৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়।

  • ভালো মানের ১ কেজি আখরোটের দাম ১৫০০ টাকা।
  • ২ কেজি ভালো মানের আখরোটের দাম ৩০০০ টাকা।
  • ১০০ গ্রাম ভালো মানের আখরোটের দাম ১৪০ টাকা এবং ৫০০ গ্রাম ভালো মানের আখরোটের দাম ৭৫০ টাকা।

বাজারে যে সমস্ত দোকানে শুকনো ফল যেমন বাদাম কিসমিস কিনতে পাওয়া যায় সে সমস্ত দোকানে এই আখরোট কিনতে পাবেন। যদি বাজারে আখরোট কিনতে পাওয়া না যায় তাহলে অনলাইন পেজ থেকে কিংবা daraz থেকে ডেলিভারি চার্জ দিয়ে আখরোট ক্রয় করতে পারবেন।

ভারতে আখরোটের দাম কত

যারা ভারতে বসবাস করেন তারা অনেকে জিজ্ঞাসা করেন যে ভারতে আখরোটের দাম কত? ভারতে এক কেজি আখরোটের দাম ১০২০ টাকা। বাংলাদেশে ১ কেজি আপলোডের দাম ১৫০০ টাকা। ভারতে ৫০০ গ্রাম আখরোটের দাম ৪৯০ টাকা। ১০০ গ্রাম আখরোটের দাম ভারতে ১০২ টাকা। যদি ২০০ গ্রাম আখরোট ক্রয় করতে চান তাহলে ভারতে ২০৪ টাকা দাম নিবে।

আরো পড়ুন: ইনকোর্স পরীক্ষা না দিতে পারায় আবেদন পত্র বাংলায় এবং ইংরেজিতে

আখরোট খুবই সুস্বাদু একটি শুকনো ফল বাদামের তুলনায় আখরোটের দাম একটু বেশি কারণ এর পুষ্টিগুলো বেশি। প্রতিদিন সকালে দুইটি আখরোট খেলে সারাদিন শরীরে প্রচুর শক্তি এবং এনার্জি আসবে পাশাপাশি শরীর পুষ্টিতে ভরপুর থাকবে।। আজকের এই প্রতিবেদনে আলোচনা করলাম আখরোট খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে আশা করছি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন আখরোট খাওয়ার উপকারিতা এবং এর দাম সম্পর্কে।

লেখকের শেষ মন্তব্য 

সুপ্রিয় পাঠক বৃন্দ আজকের এই প্রতিবেদনে আলোচনা করলাম আখরোট কোথায় পাওয়া যায় আখরোটের উপকারিতা কি আখরোটের কি কি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা পাওয়া যায় গর্ভাবস্থায় আখরোট খেলে কি কি উপকারিতা লাভ করা সম্ভব এবং আখরোট খাওয়ার নিয়ম কি? 

আখরোটে একটি স্বাস্থ্যকর শুকনো ফল। আখরোট এর সাদ কিছুটা বাদামের মত যারা বাদাম খেতে ভালোবাসেন তারা অবশ্যই আখরোট এই শুকনো ফলটি খেতে ভালোবাসেন। কিন্তু অনেকেই জানেন না আখরোট খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে আখরোট খেলে কি কি স্বাস্থ্যকর উপকারিতা পাওয়া সম্ভব?

আখরোট খেলে চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত হয় হজম শক্তি বাড়ে এবং এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে বারবার রোববারে দ্বারা আক্রান্ত বই পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায় তাই বেশি বেশি আখরোট খেতে হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। 

আশা করছি আপনারা আজকের এই প্রতিবেদনটির মাধ্যমে বুঝতে পেরেছেন আপলোড খাওয়ার উপকারিতা এবং খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে এখন সঠিক নিয়মে খেলে এর পরিপূর্ণ উপকারিতা লাভ করতে পারবেন প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ভিজিয়ে রাখা দুইটি আখরোট সকালে খেয়ে নিতে হবে এতে সারাদিন শরীরে প্রচুর পুষ্টি এবং শক্তি আসবে।

Leave a Comment

error: Content is protected !!